বরিশালে মিসাইল-রকেট তৈরি হলো ‘থান্ডারবোল্ড’ মিসাইল

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মামা-ভাগ্নে প্রিতম পাল ও সুজন চন্দ্র পাল তাদের উদ্ভাবিত থান্ডারবোল্ড মিসাইল ও রকেট প্রকল্পের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় দুই তরুণের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। দেশের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তারা নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ‘থান্ডারবোল্ড মিসাইল ও রকেট’ তৈরির কাজ করে আলোচনায় এসেছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি করেছে।

জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা গৌতম পালের ছেলে প্রিতম পাল এবং তার মামা জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে সুজন চন্দ্র পাল এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেন। প্রিতম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র এবং সুজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই তাদের এই উদ্যোগের সূচনা।

প্রিতম পাল জানান, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তারা এই কাজ শুরু করেন। নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং পরিবারের সহযোগিতায় তারা ধীরে ধীরে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যান। প্রায় ছয় মাসের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় তারা প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় করে মিসাইল ও রকেট তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেন।

সুজন চন্দ্র পাল বলেন, তাদের তৈরি করা মিসাইল ও রকেট পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জে যেতে সক্ষম এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। তবে সরকারি অনুমতি ছাড়া তারা এটি পরীক্ষামূলকভাবে নিক্ষেপ বা উড্ডয়ন করতে পারছেন না। ফলে প্রকল্পটি আপাতত পরীক্ষামূলক ও গবেষণা পর্যায়েই রয়েছে।

তাদের সম্পর্কে আরও জানা যায়, মামা-ভাগ্নে দুজনই দীর্ঘদিন ধরে রোবটিক্স সেক্টরে কাজ করছেন। এই আগ্রহের কারণে তাদের মধ্যে সবসময় যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় থাকে। তারা আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পেয়েছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও সেরা দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন, যা তাদের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রিতম পালের ব্যক্তিগত অর্জনও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক অর্জন করেন এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক পান। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে বর্ষসেরা মেধাবী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। স্মার্ট সিটি ও রোবটিক্স নিয়ে তার কাজ ইতোমধ্যে তাকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।

অন্যদিকে, সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে একটি বিশেষ রোবট তৈরি করেন, যা আগুন লাগলে বা গ্যাস লিকেজ হলে সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম। এই উদ্ভাবনের জন্য তিনি ২০২৩ সালে ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্ভাবনের প্রত্যাশা করছেন।

স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা তাদের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। শিক্ষকেরা মনে করেন, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা ও উদ্ভাবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

Post a Comment

0 Comments