![]() |
| ২৫০০ বছর আগে ভূমিকম্পে বদলে গিয়েছিল গঙ্গার গতিপথ: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্য |
গবেষণাটি কেন বিশ্বব্যাপী গুরুত্ব পেল
গঙ্গা নদী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নদী। এর গতিপথ পরিবর্তন মানে কোটি মানুষ, কৃষি, বাণিজ্য, ভূগোল এবং পরিবেশের সম্ভাব্য বিপর্যয়। গবেষকরা বলেন-
“A single large earthquake may be enough to alter the course of one of the largest rivers on Earth.”
এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তিন কারণে:
১. প্রথমবার বৈজ্ঞানিক প্রমাণসহ জানা গেল গঙ্গার প্রাচীন গতিপথ বদলেছে।
২. এটি ভূমিকম্পের শক্তি, টেকটোনিক চাপ এবং অঞ্চলের ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন সতর্কতা দিল।
৩. এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত অঞ্চলের ভূমিকম্প-ঝুঁকি মানচিত্র নতুনভাবে তৈরি করতে হতে পারে।
কীভাবে গবেষকরা বুঝলেন গঙ্গা নদী পথ বদলেছিল?
১। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা মিলেছে প্রাচীন গঙ্গার “প্যালিও-চ্যানেল”
উচ্চমানের স্যাটেলাইট ইমেজে গবেষকরা দেখতে পান:
📣 ঢাকার দক্ষিণ দিকে প্রায় ১০০ কিমি লম্বা একটি বড় নদীর পুরনো চ্যানেল
📣 প্রস্থ ছিল প্রায় ১.৫ কিলোমিটার
📣 এখন যে স্থানটিতে কাদামাটি ও কৃষিজমি, অতীতে সেখানে বিশাল জলপ্রবাহ ছিল
📣 সেই চ্যানেল দ্রুত কাদায় ভরে গেছে (rapid infilling), যা স্বাভাবিক নয়এটি নির্দেশ করে-হঠাৎ কোনো বিপর্যয়ে নদী তার মৌলিক রুট ছেড়ে দিয়েছে।
২। মাটির নিচে পাওয়া “সিসমাইট”-ভূমিকম্পের সরাসরি সাইন
এটি গবেষণার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ।
📣 মাটির নিচে পাওয়া গেছে স্যান্ড ডাইক, যার প্রস্থ ৩০–৪০ সেমি
📣 বালির স্তর নিচের কাদামাটির অংশ ছেদ করে ওপরে উঠে গেছে
📣 এই ঘটনা ঘটে শুধু তখনই, যখন ভূমিকম্পে মাটি তরল হয় (liquefaction)এ ধরনের সিসমাইট সাধারণ ক্ষুদ্র কম্পনে তৈরি হয় না। এটি নির্দেশ করে একটি মেগা-আরথকোয়েক ঘটেছিল।
৩। OSL লুমিনিসেন্স পরীক্ষায় বয়স নির্ধারণ
OSL Dating দেখায়- এ ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় ২৫০০ বছর আগে।
ভূমিকম্পটি কত বড় ছিল?
গবেষকদের অনুমান:
মাত্রা ৭.০–৮.৫ (রিখটার স্কেল)
অর্থাৎ,
🧿 ১৮০–২০০ কিমি এলাকা তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে
🧿 প্রচণ্ড কম্পনে নদীর তলদেশ নড়ে ওঠে
🧿 বিশাল চ্যানেলের ওপর চাপ তৈরি হয়
🧿 নদী দ্রুত নতুন পথ খুঁজে নেয়এটি ছিল বাংলাদেশ-ভারত উপমহাদেশের এক “Super Rare” ঘটনা।
ভূমিকম্পের উৎসস্থল কোথায় ছিল?
দুইটি সম্ভাবনা-
১. মিয়ানমার উপকূলের Subduction Zone
এখানেই ১৭৬২ সালের ভয়ংকর আরাকান ভূমিকম্প হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল ৮.৫+
২. হিমালয়ের Splay Fault System
ইন্টারপ্লেট চাপের কারণে এ ফোল্ট লাইন বিশাল ভূমিকম্প তৈরি করতে সক্ষম।
গঙ্গার গতিপথ বদলে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
গবেষকেরা ৪টি ধাপে ব্যাখ্যা দিয়েছেন-
১) ভূমিকম্পে মাটির Liquefaction
কম্পনে নিচের বালির স্তর তরল হয়ে ওঠে।
২) মাটির ফাটল ধরে Sand Dike ওপরে উঠে আসে
এটি নির্দেশ করে মাটির নীচে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছিল।
৩) নদীর তলদেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে
ফলে গঙ্গার জলপ্রবাহ পুরনো পথ ছাড়তে বাধ্য হয়।
৪) নতুন চ্যানেল দ্রুত গঠিত হয়
পুরনো পথ কাদায় ভরে যায় → নতুন পথ স্থায়ী হয়ে যায়।
এটি ঘটে “One Event”-একবার বড় ভূমিকম্পে।
বাংলাদেশে এর প্রভাবে ভয়ংকর যা হতে পারে
এই গবেষণা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ-
১। দেশের ১৪ কোটিরও বেশি মানুষ ঝুঁকিতে
বিশেষ করে:
🟡 ঢাকা
🟡 ফরিদপুর
🟡 বরিশাল
🟡 কুমিল্লা
🟡 মানিকগঞ্জ
🟡 মাদারীপুর
🟡 শরীয়তপুর
২। নদীর গতিপথ বদলে গেলে
৩. ভূমিকম্প + নদী পরিবর্তন = Cascading Disaster
অর্থাৎ এক বিপর্যয় আরেক বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।
কৃষি ও পরিবেশগত ঝুঁকি
🟡 পুরনো প্যালিও-চ্যানেল অঞ্চলে কাদামাটি জমি রয়েছে
🟡 ভবিষ্যতের ভূমিকম্পে এই মাটি ভেঙে পড়তে পারে
🟡 দ্রুত প্লাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হতে পারে
🟡 নতুন নদীপথ কৃষি জমি গিলে নিতে পারেগবেষকদের উদ্বেগ ও বিশেষ মন্তব্য
লিজ চেম্বারলেন, প্রধান গবেষক:
“এটি বিশ্বে প্রথম সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যে বড় নদী সরাসরি ভূমিকম্পে পথ বদলাতে পারে।”
মাইকেল স্টেকলার, সিসমোলজিস্ট:
বাংলাদেশি গবেষক ড. হুমায়ূন আখতার
“এটি বাংলাদেশের ঝুঁকি-মানচিত্র পরিবর্তন করবে। শহর পরিকল্পনাও নতুনভাবে ভাবতে হবে।”
ভবিষ্যতের জন্য জরুরি করণীয়
🔊 বাংলাদেশে আরও বেশি ভূমিকম্প স্টেশন স্থাপন করা দরকার
উন্নত সিসমিক মনিটরিং জরুরি।
🔊 নদী ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান
চ্যানেল পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসাব করতে হবে।
🔊 অবকাঠামোকে Earthquake-Resilient করতে হবে
বিশেষ করে: সেতু, বাঁধ, নদীর পাড় সংরক্ষণ কাঠামো।
🔊 নদীর পুরনো চ্যানেল বা প্যালিও-চ্যানেল অঞ্চলসমূহ “হাই-রিস্ক জোন” ঘোষণা করা প্রয়োজন
🔊 জনসচেতনতা ও গবেষণায় বড় বিনিয়োগ দরকার
সবশেষে যে উপলব্ধী হলো
এখন প্রশ্ন-আমরা প্রস্তুত তো?

0 Comments